কুমিল্লাপ্রতিনিধি :
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেরি করে দেওয়া চার কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত চেয়ে সেসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি নিয়ে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছেন পরাজিত সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাতে মনিরুল হক সাক্কু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে গত ২৩ জুন কুসিক নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র আরফানুল হক রিফাত, ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলরদের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ৩৪৩ ভোটে হেরে যান। গত ২৩ জুন বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশিত হয়। আগামী ৪ জুলাই বিজয়ী প্রার্থীদের শপথগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
এদিকে নগরীর ৪২ নম্বর কেন্দ্র ভিক্টোরিয়া সরকারি বিদ্যালয় (উত্তর পাশের তিনতলা ভবন), ৭৮ নম্বর কেন্দ্র দিশাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নতুন ভবন ও পশ্চিম পাশের পুরোনো ভবন), ৭৯ নম্বর কেন্দ্র দিশাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (উত্তর পাশের ভবন) এবং ৯৭ নম্বর কেন্দ্র শালবন বিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (পূর্ব-উত্তর পাশের ভবন) ফলাফল বাতিল ও গেজেট স্থগিত করে পুনরায় ভোটগ্রহণের আবেদন করেন সাক্কু।
মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে শিল্পকলা একাডেমির দূরত্ব আধা কিলোমিটার। এই পথ যেতে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার পুলিং এজেন্টদের ফলাফল বিবরণী না দিয়ে দ্রুত চলে যান। দিশাবন্দ নতুন ও পুরোনো ভবন ভোটকেন্দ্রে ফলাফলের তালিকায় যে স্বাক্ষর ও পিন নম্বর আছে, সেটি তার এজেন্টদের নয়।
তিনি বলেন, শালবন বিহার কেন্দ্রে ভোটের ফলাফলে তার এজেন্টের কোনো স্বাক্ষর নেই। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টেরও নেই। ফলাফল ঘোষণার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার অবৈধ হস্তক্ষেপ ও অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবে কালক্ষেপণ করার কারণে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তা সারাদেশের মানুষ দেখেছে। আমি তাই ওই ৪ কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানাবো ট্রাইব্যুনালে।
মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমি ২৪ তারিখ আবেদন করেছি। বর্তমানে ঢাকায় আছি। গেজেট প্রকাশের ৩৩ দিনের মধ্যে মামলা করার নিয়ম আছে। প্রস্তুতি নিচ্ছি, যেকোনো সময় মামলা করব।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। মনিরুলের অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ভোটের চারদিন পর ব্যাখ্যা দিয়েছে।
Leave a Reply